প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের নার্সারিতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের ঘটনায় পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নার্সারিতে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সংকোচক বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ওই কক্ষে ১৬টি নবজাতক ছিল। ভয়াবহ আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে উদ্ধারকারীরা মাত্র একটি শিশুকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন।
হাসপাতালের তিনতলায় অবস্থিত নার্সারিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হয়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, উদ্ধারকারীরা জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থলে শীতলীকরণের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নার্সারিতে থাকা অধিকাংশ নবজাতকই প্রাণ হারায়। আগুনে কয়েকটি শিশুর মরদেহ এতটাই পুড়ে যায় যে সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। নিহত নবজাতকদের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও আহাজারি।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সংকোচর বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ একটি কক্ষে কীভাবে এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এত প্রাণহানি হলো, তা নিয়ে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদের এই হাসপাতালটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। এর আগে আদালতের নির্দেশে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও এই হাসপাতালে করা হয়েছিল।



