রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কমেছে খ্রিষ্টান, এক দশকে ১২ লাখ বেড়েছে মুসলিম জনসংখ্যা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কমেছে খ্রিষ্টান, এক দশকে ১২ লাখ বেড়েছে মুসলিম জনসংখ্যা

সংগৃহীত

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গত এক দশকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই অঞ্চলে নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ লাখ। মোট জনসংখ্যার হিসাবে মুসলিমদের অংশ এখন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এক দশক আগে, অর্থাৎ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১২ লাখ। সংখ্যার পাশাপাশি মোট জনসংখ্যার মধ্যেও তাদের অংশ বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। সরকারি পরিসংখ্যানের এই পরিবর্তন দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বৈচিত্র্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে মানুষ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসের জন্য গেছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম-প্রধান অঞ্চল থেকেও অভিবাসনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের একটি অংশ দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে শুধু অভিবাসন দিয়েই এই পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করা যায় না। আদমশুমারির বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও মুসলিম জনগোষ্ঠীর তুলনামূলক কম গড় বয়সের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের গড় বয়স ছিল ২৭ বছর। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে কম গড় বয়সের একটি চিত্র।

তুলনামূলকভাবে কম বয়সী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ প্রবণতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানসংখ্যার ধরনও দীর্ঘমেয়াদে কোনো জনগোষ্ঠীর আকার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু জন্মহারকে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; অভিবাসন, বয়স কাঠামো, জনমিতিক পরিবর্তন এবং মানুষের ধর্মীয় পরিচয়—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২১ সালের আদমশুমারিতে ধর্মীয় পরিচয় জানানো বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে প্রকাশিত সংখ্যা মূলত যারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে মুসলিম উল্লেখ করেছেন, তাদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

গত এক দশকের এই পরিবর্তন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জনসংখ্যার সামগ্রিক চিত্রেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি একই সময়ে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে দেশটির ধর্মীয় কাঠামো ক্রমেই আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ থেকে বেড়ে ৩৯ লাখে পৌঁছানো একটি উল্লেখযোগ্য জনমিতিক পরিবর্তন। ভবিষ্যতে অভিবাসনের ধারা, বয়স কাঠামো, পরিবার ও জন্মসংক্রান্ত প্রবণতা এবং মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তন—এসব বিষয় এই জনগোষ্ঠীর আকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!