রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা আদালতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা আদালতে

ফাইল ছবি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করসংক্রান্ত আরও ৩১টি মামলা উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি কয়েকশ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর ড. ইউনূসের করসংক্রান্ত মামলাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত করসংক্রান্ত বিষয়ে ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই সময়ের মামলাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকারের সময়ে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও আইনগত অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ কল্যাণের মামলার বাইরে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে করসংক্রান্ত আরও ৩১টি মামলা উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে। এসব মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের কর দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিটি মামলায় দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আরও ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে শ্রম আইন, কর্মীদের পাওনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিটি মামলার অভিযোগ ও আইনি অবস্থান পৃথক হওয়ায় সেগুলোকে একই ধরনের মামলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন, তার মক্কেলকে উদ্দেশ্য করে এক ধরনের গণমাধ্যমনির্ভর বিচার বা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও আগের আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ করছে। তার মতে, ড. ইউনূসকে ঘিরে মামলা ও করসংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, আদালতের রায় ও আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, কোনো মামলায় কর দাবি বা অভিযোগ থাকলেই তা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না। আদালতের শুনানি, নথিপত্র, আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিটি মামলার নিষ্পত্তি হবে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের রায় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত আলোচনার অন্যতম বিষয়। গ্রামীণ কল্যাণের করসংক্রান্ত রায়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিচারাধীন অন্যান্য মামলার অগ্রগতি কোন দিকে যায় এবং সেগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব দাবি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আইনি অবস্থান কীভাবে নির্ধারিত হয়।

তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করাই আইনগতভাবে যথাযথ।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!