প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে ইসরায়েলের এক হাজারের বেশি সামরিক সদস্য নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও শতাধিক সামরিক সদস্য নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হওয়ার দাবি করেছেন তিনি। তবে ইরানের এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা হতাহতের স্বাধীন কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শেকারচি। তাঁর দাবি, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের এই সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতে ইসরায়েলের এক হাজারের বেশি সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ সামরিক সদস্য নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।
তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সামরিক হতাহতের সংখ্যা ইরানের দাবির তুলনায় অনেক কম। ফলে শেকারচির দেওয়া সংখ্যাগুলোকে আপাতত ইরানের পক্ষের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শেকারচি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের প্রকৃত সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করছে না। তাঁর অভিযোগ, সংঘাতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার দুর্বলতা আড়াল করতেই হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা হচ্ছে।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, যেসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তাদের অনেকেই ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন শেকারচি। ইরান এই জলপথের ওপর নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা ইরান প্রতিহত করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শেকারচি আরও বলেন, সংঘাতে নিহত ইরানিদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি তেহরান ভুলে যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিশোধ নিতে সময় কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের এমন বক্তব্যের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকেও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।



