প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১০:২০ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন অস্ত্র ব্যবহারের কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নটিকে অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক দিক থেকে ইরান ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্যে ইরানবিরোধী চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো হুমকি দেননি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা। সাবেক সন্ত্রাসবাদবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্টের মতে, প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের নেতৃত্বকে প্রত্যাশিতভাবে দুর্বল করা সম্ভব না হলে এবং ওয়াশিংটন যদি দেশটিকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করার অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে সংঘাত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।
কেন্ট আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে একেবারে অসম্ভব বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে জটিলতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ফলে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ এখন কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



