রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ১২, আহত ৭৬

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ১২, আহত ৭৬

ছবিঃ সংগৃহীত

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় হতাহতের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতা ও আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক জেলার উপকূলীয় কুহেস্তাক এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি আনন্দঘন পারিবারিক অনুষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ ও আগাজারি এলাকায়ও একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় সাতজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

দক্ষিণ ইরানের আরও কয়েকটি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বান্দার আব্বাস, কেশম, জাস্ক এবং চাবাহার ও কোনারাকের আশপাশের এলাকা রয়েছে। এসব স্থানে হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং হতাহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফলে এখনো সব এলাকার পূর্ণাঙ্গ হতাহতের হিসাব পাওয়া যায়নি।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ছিলেন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। আহতদের মধ্যে শিশু থাকার খবরও হামলার মানবিক দিকটি আরও গুরুতর করে তুলেছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল আহতদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হামলার পর অনেক এলাকায় স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে এসব হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!