প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মুখে সমুদ্র ও স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে রিয়াদ নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন কিছু এলাকা থেকে সৌদি বাহিনীর সেনা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক দেশের সমন্বয়ে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হুমকি ও হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় দেশটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তারাও সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে। তবে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, তেল পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত এই নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবের নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


