প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বর্তমানে Gulf Cooperation Council (জিসিসি)ভুক্ত দেশ—Saudi Arabia, United Arab Emirates, Oman, Kuwait, Qatar এবং Bahrain—এ প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাদের একটি বড় অংশ নির্মাণ, সেবা ও নিম্ন আয়ের শ্রমনির্ভর পেশায় কাজ করেন।
নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান এসব শ্রমিক। বিদেশে থাকা অবস্থায় দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকা, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ—এসব মিলিয়ে যে অদৃশ্য ক্ষতি তৈরি হয়, অর্থনীতিবিদরা সেটিকে ‘সোশ্যাল কস্ট’ বা সামাজিক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প কমে গেলে শ্রমিক ছাঁটাই বাড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর।
University of Dhaka-এর ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক Shahidul Zahid বলেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারেন। এতে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতি নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে বেকারত্ব বাড়তে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো।
Bangladesh Bank-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫.৪০ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসি দেশগুলো থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র Arif Hossain Khan বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে প্রবাসীরা চাকরি হারালে বা দেশে ফিরতে বাধ্য হলে দুটি বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে United States ও Israel। হামলার প্রথম পর্যায়েই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। একই হামলায় তার পরিবারের সদস্যসহ দেশটির বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘাতের ফলে ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানে হামলার জবাবে চালানো আক্রমণে ইসরাইলে ১১ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিচ্ছিন্ন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া লেবাননেও ইসরাইলি হামলায় প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং প্রবাসী শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।



