প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ডলারের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আগাম আমদানি দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয়ের ডলার কিনছে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দামে। এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ছিল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্র।
একজন আমদানিকারক অভিযোগ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমদানির ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়বে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডলারের দাম কিছুটা বাড়তি প্রস্তাব করা হচ্ছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকা দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে। গত ৩ মার্চ যেখানে গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি না বাড়ানোই ভালো। তাই এখনো বাজারে দাম সেই সীমার মধ্যেই রয়েছে।
তবে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়লে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে সহায়তা দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।



