রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অর্থবছরে ডলার কেনায় বড় অঙ্ক পার করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

অর্থবছরে ডলার কেনায় বড় অঙ্ক পার করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

দেশীয় মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কমাতে চলতি অর্থবছরে বড় পরিসরে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ ছয় বিলিয়নের সীমা অতিক্রম করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে ডলারের সরবরাহ ও বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে, বাজারে অতিরিক্ত ওঠানামা ঠেকাতে এবং টাকার মানের বড় ধরনের পতন এড়াতে ধারাবাহিকভাবে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখা এবং বিনিময় বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে কিংবা বৈদেশিক আয় ইতিবাচক ধারা দেখায়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজার থেকে অতিরিক্ত চাপ কমানোর চেষ্টা করে। এতে স্থানীয় মুদ্রার আকস্মিক দরপতন ঠেকানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি খাতেও একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এসব উৎস শক্তিশালী না হলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ডলার কেনাবেচায় নিয়ন্ত্রিত নীতি গ্রহণের ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা আপাতত কমে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে ব্যবসায়ী মহলের একাংশ বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে আমদানিনির্ভর শিল্প ও ব্যবসা খাত উপকৃত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয় বিলিয়নের বেশি ডলার ক্রয় দেশের মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন নজর থাকবে এই নীতির মাধ্যমে কতটা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!