প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন মুদ্রাটির দর কিছুটা কমে এসেছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপে বাজারে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নামার ক্ষেত্রে নতুন বার্তা গেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
মঙ্গলবার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে পাঁচ কোটি ডলার সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ মে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ডলার কেনার এই উদ্যোগকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংক খাতের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে বাজারে ডলারের দর তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বিভিন্ন ব্যাংক প্রবাসী আয় সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সা দরে কিনছিল। অন্যদিকে আমদানির দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দর ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সার মধ্যে।
এ অবস্থায় দুপুরের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত জানায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণার পরপরই বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বিকেলের দিকে বেশ কয়েকটি ব্যাংক প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রেও একই দরে ডলার কেনা শুরু করে। পাশাপাশি আমদানিসংক্রান্ত দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও ওই দর কার্যকর করার প্রবণতা দেখা যায়।
একজন ব্যাংকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ডলার কেনার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত গেছে। তা হলো, ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার নিচে নেমে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলার কিনতে পারে। এতে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দর আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের সরবরাহ আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা। একই সময়ে আমদানির দায় পরিশোধের চাপও কিছুটা কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ দুর্বল থাকায় আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও তুলনামূলক কম। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এর দর নিম্নমুখী ছিল।
তবে গত কয়েক সপ্তাহে ডলারের দরে বেশ ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রতি ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায় উঠেছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে দর নেমে প্রায় ১২২ টাকায় চলে এসেছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে ডলারের দরে প্রায় দেড় টাকার বেশি পার্থক্য দেখা গেছে।
এদিকে আগামী মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কয়েকটি বড় ধরনের অর্থ পরিশোধের সময় আসছে। ফলে ওই সময় ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। এ কারণে সামনের দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে একদিকে যেমন বাজারে অতিরিক্ত ডলারের সরবরাহ কিছুটা শোষিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ডলারের দরকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের বাজার কার্যক্রম ভূমিকা রাখতে পারে।



