প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
হঠাৎ প্রয়োজনীয় খরচের চাপ সামাল দিতে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে প্রস্তাবিত এ সুবিধা রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অনেক সময় গ্রাহকের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য জরুরি ব্যয় পরিশোধ করতে হয়। এ ধরনের সাময়িক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ছোট অঙ্কের ঋণ সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় যোগ্য গ্রাহকেরা সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে এ অর্থ হাতে নগদ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ঋণের টাকা গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবে জমা দেওয়াও যাবে না। নির্ধারিত ডিজিটাল পরিশোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতার কাছে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এই ঋণের অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অর্থ সংযোজন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ খরচ, কর ও সরকারি সেবার নির্ধারিত ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার কিস্তি পরিশোধেও অর্থটি ব্যবহার করা যাবে।
ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহককে ৭, ১৫ অথবা ৩০ দিনের মেয়াদ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে সুদ নেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি আদায় করবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি নেওয়া যাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ বা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য কোনো বাড়তি ফি নেওয়া হবে না। তবে সময়সীমা অতিক্রম করলে জরিমানা আরোপের সুযোগ থাকবে। সেই জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হতে পারবে না।
নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহক নিবন্ধন, ঋণের আবেদন, অনুমোদন, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ এবং ঋণ ফেরতের পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এককালীন পাসওয়ার্ড, দুই ধাপের নিরাপত্তা যাচাই কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক স্তরের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
ব্যাংকগুলো চাইলে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, অর্থ পরিশোধসেবা প্রদানকারী এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ সুবিধা পরিচালনা করতে পারবে। তবে পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধানের আওতায় পরিচালিত হবে।
প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে সুবিধাটি নিয়মিতভাবে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন এ উদ্যোগ চালু হলে জরুরি প্রয়োজনে ছোট অঙ্কের অর্থের সংকটে থাকা গ্রাহকেরা সহজে প্রয়োজনীয় পরিশোধ সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও আরও বাড়বে।



