রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৮:১৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি

প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক মন্দার মুখে পড়তে পারে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস’ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছর জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং আগামী বছরেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ বড় ধাক্কা দেখা গিয়েছিল মহামারির সময়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে তেলের গড় দাম যদি ১১০ ডলার এবং আগামী বছরে ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তখন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে।

তবে আশার কথা হলো, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং বছরের মাঝামাঝি নাগাদ জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে—যদিও এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম।

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও বড় ধরনের চাপে পড়তে যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতি চলতি বছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। তবে দ্রুত যুদ্ধ শেষ হলে ২০২৭ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে কাতারের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে জ্বালানি অবকাঠামো ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রার ওপর। কিছু দেশ বিকল্প ব্যবস্থার কারণে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও অধিকাংশ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী কয়েক মাসে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!