প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। একদিকে ডিম ও বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন করে বাড়ানো হয়েছে সয়াবিন তেলের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজারের খরচ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদার তালিকায় থাকা অনেক সবজিই এখন আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে কিছু সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং চারটি ডিম ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও তুলনামূলক কম দামে ডিম পাওয়া গেলেও বর্তমানে দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে খাবারের তালিকায় ডিমের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।
সবজির বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা গেছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো পরিচিত সবজির দাম এখন বেশ চড়া। এসবের অনেকগুলোই কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুনের কেজি ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। টমেটোর দামও ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।
কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। শসার দাম তুলনামূলক কম। সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বরবটি, ঝিঙে ও করলা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকা কেজি দরে।
বর্ষাকালে বাজারে আসা আগাম শিমের দামও ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। প্রতি কেজি শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের প্রতিটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে। এর কেজি প্রায় ৪০ টাকা।
সবজির পাশাপাশি রান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকায় উঠেছে। দাম বাড়ার পরও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের একদিকে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনমতো তেল সংগ্রহ নিয়েও অনেকে সমস্যায় পড়ছেন।
তবে শাকের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। লালশাক ও কলমিশাকের আঁটি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ডাঁটাশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউশাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
মাংসের বাজারে অবশ্য বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের অবস্থায় রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ক্রেতাকে ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
মাছের বাজারে চড়া দামের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই ও কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিংড়ি মাছ আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
পাবদা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পোয়া প্রায় ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শোলের দাম প্রায় ৭০০ টাকা কেজি। বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই তুলনামূলক কম, প্রায় ৩০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর মাছ ও চাহিদাসম্পন্ন কিছু মাছের দাম আরও বেশি। নদীর বেলে মাছসহ কয়েক ধরনের মাছ কিনতে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েকটি পণ্য সামান্য কম দামে পাওয়া গেলেও একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে গেলে মোট খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডিম, সবজি, তেল ও মাছের বাড়তি দামে মাসিক সংসার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে।



