প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
বাংলাদেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিচয় যাচাই সেবা চালু করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে অনলাইন লেনদেনের সময় আর প্রতিবার এককালীন গোপন সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। পরিবর্তে গ্রাহকরা নিজেদের ব্যবহৃত যন্ত্রে থাকা আঙুলের ছাপ, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ কিংবা ব্যক্তিগত গোপন সংকেতের মাধ্যমে সহজেই লেনদেনের অনুমোদন দিতে পারবেন।
নতুন এই সেবা চালুর মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটা ও অর্থ পরিশোধের অভিজ্ঞতা আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। দেশের দুটি বেসরকারি ব্যাংকের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপদ পরিচয় যাচাই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি লেনদেন সম্পন্ন করার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে এককালীন গোপন সংকেত ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় বিলম্ব, বার্তা না পৌঁছানো কিংবা মাঝপথে লেনদেন বাতিল হওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নতুন প্রযুক্তি চালুর ফলে এসব জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। কারণ পরিচয় নিশ্চিত করতে আলাদা বার্তার জন্য অপেক্ষা না করে ব্যবহারকারীর নিজস্ব যন্ত্রেই অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
প্রযুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একবার নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর একই পরিচয় যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন অনলাইন বিক্রয়মাধ্যম ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ লেনদেন করা সম্ভব হয়। ফলে বারবার নতুন করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন পড়বে না। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য অনলাইন লেনদেন আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বাণিজ্য ও ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইন কেনাকাটা, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক সেবায় গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
নতুন প্রযুক্তিটি বিশ্বের স্বীকৃত পরিচয় যাচাই মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি হওয়ায় এটি বিভিন্ন ধরনের মোবাইল যন্ত্র, কম্পিউটার এবং প্রচলিত ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই ব্যবহার করা যাবে। আঙুলের ছাপ, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ কিংবা ব্যক্তিগত গোপন সংকেত ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করার এই পদ্ধতি নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও সুরক্ষিত রাখবে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও নিরাপদ ও উদ্ভাবনী আর্থিক প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন আরও আধুনিক সেবা চালু করে ডিজিটাল লেনদেনকে সবার জন্য সহজ, নিরাপদ এবং অধিকতর নির্ভরযোগ্য করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।



