রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অবশেষে দেশে পেপ্যাল সেবা চালুর দ্বার উন্মুক্ত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

অবশেষে দেশে পেপ্যাল সেবা চালুর দ্বার উন্মুক্ত

ফাইল ছবি

দেশে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও আধুনিক করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগের ফলে দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল অর্থ পরিশোধ ও অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে আন্তসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনের সেবা চালু করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং মুক্তপেশাজীবীরা বিদেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আরও বেশি সুবিধা পাবেন।

নতুন নীতিমালায় ব্যাংকভিত্তিক মধ্যস্থতাকারী কাঠামো চালুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল অর্থ পরিশোধ সেবাদাতা, অনলাইন অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বৈধ আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল মূল্য হিসাব খোলার সুযোগ থাকবে। এই হিসাবের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ গ্রহণ, অর্থ পরিশোধ এবং অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। তবে সব হিসাব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রতিটি লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। অব্যবহৃত অর্থও ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় বা ফেরত দেওয়া হবে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যয়, অনলাইনে আবাসন বুকিং এবং ক্ষুদ্র পরিসরের আন্তর্জাতিক কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারক ও মুক্তপেশাজীবীরা বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে আগত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকেরাও অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে ডিজিটাল উপায়ে অর্থ পরিশোধের সুবিধা পাবেন। এতে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সেবা চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালন কাঠামোর তথ্য জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক পরিচয় যাচাই এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ-সংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত লেনদেনের তথ্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!