রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দীর্ঘ দুই বছর নতুন কোনও শেয়ার ছাড়াই চলছে পুঁজিবাজার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

দীর্ঘ দুই বছর নতুন কোনও শেয়ার ছাড়াই চলছে পুঁজিবাজার

প্রতীকী ছবি

দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ধারা প্রায় থমকে গেছে। টানা দুই বছর ধরে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে বাজারে না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোম্পানির অনুপস্থিতি শুধু বিনিয়োগের সুযোগই সীমিত করছে না, একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুন মাসে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও আর কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ছাড়েনি। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় নতুন কোম্পানিশূন্য অবস্থা আগে দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নতুন কোম্পানি বাজারে এলে বিনিয়োগকারীরা নতুন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পান। একই সঙ্গে বাজারে নতুন মূলধনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় এবং ভালো মানের প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নতুন প্রতিষ্ঠান না আসায় বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ কমে গেছে এবং বাজারের গভীরতাও সংকুচিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২১ সালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান শেয়ার ছেড়ে বিপুল পরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করেছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে নতুন কোম্পানির সংখ্যা কমতে থাকে। পরবর্তী সময়ে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাজারে এলেও গত দুই বছরে সেই ধারাও পুরোপুরি থেমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বন্ধ থাকলে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীরা নতুন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, অন্যদিকে বাজারের আকারও কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পায় না। ফলে বাজারে স্থবিরতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে। ভালো মানের প্রতিষ্ঠানকে বাজারে আনতে বিধিমালায় পরিবর্তন, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। পাশাপাশি বাজারে নতুন মূলধনের প্রবাহ বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পুঁজিবাজার আবারও গতিশীল হয়ে উঠতে পারবে।

তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!