প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন বেতনস্তর বা গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।
সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতে মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কয়েকজন কমিশনারকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার পর ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্ত শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আগে থেকেই অন্য একটি ঘটনায় চাকরিচ্যুত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর বাকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
ওই বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এ সময় তারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিতেও যান। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিএসইসির কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
ঘটনার অভিযোগে বলা হয়, কমিশনের সভা চলার সময় একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী জোর করে সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া, সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া, লিফট অচল করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে আসে।
ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
সরকারি তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বিএসইসির ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



