প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সমন্বিত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লাভজনক অবস্থান থেকে বড় অঙ্কের লোকসানে চলে যাওয়ায় ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা। প্রথম তিন মাসে কয়েক শ কোটি টাকা লোকসান হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ছয় মাসের সামগ্রিক লোকসান এক হাজার তিনশ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব বাদ দিলেও ব্যাংকটির আর্থিক চিত্র খুব একটা ভিন্ন নয়। একক হিসাবে ছয় মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং একক শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ মূল ব্যাংকের কার্যক্রমেও আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে নিয়মিত মুনাফা পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগের কারণে প্রত্যাশিত আয় না পাওয়া এবং অন্যান্য ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থ থেকে আয় কমে যাওয়াই এই লোকসানের প্রধান কারণ। বিশেষ করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে আদায় না হওয়ায় আয় কমেছে, কিন্তু আমানতকারীদের প্রাপ্য মুনাফা পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হয়েছে।
তবে সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন আমানত জমা পড়েছে, যা ভবিষ্যতে তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি বিনিয়োগ দ্রুত পুনরুদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর নীতিগত সহায়তা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকটির কার্যক্রম আবারও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



