রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে কমছে আমানত, বাড়ছে চাপ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

ইসলামী ব্যাংকে কমছে আমানত, বাড়ছে চাপ

প্রতীকী ছবি

দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমানত ও বৈদেশিক লেনদেনে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত, রপ্তানি আয়, আমদানি নিষ্পত্তি এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিচালন ব্যবস্থায় দুর্বলতা, গ্রাহকের আস্থার সংকট এবং খেলাপি ঋণের চাপের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তবে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনো ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। মোট ব্যাংক আমানতের বড় একটি অংশ এবং ঋণ ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ শেষে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। এর আগের তিন মাসের তুলনায় আমানত কমেছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। তবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আমানত বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংক আমানতের প্রায় ২৩ শতাংশের বেশি ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। একই সময়ে এসব ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ ও ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকায়। তিন মাসে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

তবে তারল্য পরিস্থিতিতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ও আমানতের অনুপাত কমে এসেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি ব্যাংকে আমানত প্রত্যাহারের চাপ এবং দুর্বল সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে খাতে সতর্কতা প্রয়োজন।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় আগের সময়ের তুলনায় কমেছে। একইভাবে আমদানি নিষ্পত্তি এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহেও হ্রাস পেয়েছে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

তবে কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, সবুজ অর্থায়ন ও নারী উদ্যোক্তা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির চিত্রও রয়েছে। কৃষি খাতে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন আগের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন ও ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামী শাখা ও সেবা চালু রয়েছে। এ খাতে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ও কর্মী যুক্ত থাকায় খাতটির স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা গেলে আবারও আমানত ও লেনদেনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক খাতে সময়ের সঙ্গে আমানতের ওঠানামা স্বাভাবিক বিষয়। তবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!