প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে প্রায় ২৭০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলার দেশে প্রবেশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাস শেষ হওয়ার আগে এই প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২২৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে এবার প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এর আগে জুন মাসেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। ওই মাসে মোট ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ এসেছে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন, বিশেষায়িত এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
চলতি বছরের আগের কয়েক মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। মে মাসে ৩৪২ কোটির বেশি মার্কিন ডলার দেশে আসে, যা একক মাসে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এরও আগে মার্চ মাসে প্রায় ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়ে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েন প্রবাসীরা।
অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের আস্থার কারণে প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। তারা আশা করছেন, এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি সঞ্চার করবে।



