প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আর্থিক খাতকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সহায়তার অর্থ ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন, আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং জরুরি তারল্য সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা, সুশাসনের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে খাতটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার এখন সময়ের দাবি।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতির সমস্যায়ও ভুগছে। এই বাস্তবতায় নতুন অর্থায়ন ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হলে আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হবে।



