প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
সরকারি হিসাবে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা এর আগের মাস জুনে ছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের হালনাগাদ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রবণতা। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। জুনে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে অবস্থান করেছে। পোশাক ও জুতায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, পরিবহনে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং শিক্ষায় ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে। এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বিবিধ পণ্য ও সেবায় মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এদিকে শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি ছিল। জুলাইয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর শহরে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ হওয়ায় খাবারের বাইরের ব্যয় নিয়ে চাপ বেশি রয়েছে।
বিভাগভেদেও মূল্যস্ফীতির পার্থক্য রয়েছে। জুলাইয়ে খুলনা বিভাগে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, রংপুরে ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিপরীতে সিলেটে ছিল ৮ দশমিক ০২ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।
তবে এক মাসের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য। গত আগস্ট থেকে চলতি জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমার প্রবণতা দেখা গেলেও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব এখনো যথেষ্ট রয়েছে।



