প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনেই দেশে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে এসেছে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের প্রথম ৫৩ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার বিস্তার এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ছে। একই সঙ্গে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব ও পারিবারিক প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়লে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয়ের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসের শেষ নাগাদ প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ করা গেলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



