প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ২২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতিতে দেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ এখন প্রায় ২৯ দশমিক ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই ধরনের হিসাবেই রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই ইতিবাচক অবস্থান মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফল। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শুধু মাসভিত্তিক হিসাবেই নয়, মে মাসের শুরুতেও রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ১ থেকে ৯ মে পর্যন্ত সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ০২৯ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সেই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ৮৬৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে এই সময়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশের বেশি।
এছাড়া মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২৭৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা নীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার উন্নতি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধিও এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রাখা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে।
সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও রিজার্ভের এই উন্নয়ন অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় সতর্ক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।



