প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ৯৭ বারের মতো পেছাল। রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। আদালত থেকে বারবার সময় দেওয়া হলেও তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ভুয়া নির্দেশনার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনে পাঠানো হয় এবং সেখানে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরের পর বিভিন্ন জুয়ার আসরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর একই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে মামলার শুরুতে সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি।
তদন্তে দেশের ভেতরের একটি চক্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথাও সামনে আসে। দীর্ঘ তদন্তের পরও চুরি যাওয়া পুরো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়া হলেও আরও প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অর্থ উদ্ধারের জন্য মামলা করে। পরবর্তী সময়ে ওই মামলার এখতিয়ার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উপযুক্ত আদালতে নতুন আইনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
এদিকে দেশে চলমান মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা না পড়ায় বিচারিক কার্যক্রমও এগোতে পারছে না। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



