প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতিতে আবারও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে জাতীয় রিজার্ভ পুনরায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসায় রিজার্ভে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। কয়েকদিন আগেও এই পরিমাণ ছিল ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হিসাব করা ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাব করলে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সূচকই প্রকৃত অর্থে দেশের বৈদেশিক সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে মোট রিজার্ভ ও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমে আসায় আমদানি ব্যয়ের চাপও আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব কারণ মিলেই বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যদি প্রবাসী আয় ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতেও রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এতে বৈদেশিক লেনদেন, মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী হওয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



