প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
নড়াইলে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। এরই মধ্যে জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের একটি খামারে ২২টি ষাঁড় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি সাহিওয়াল ও একটি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের।
তবে সবার নজর কেড়েছে প্রায় ২৮ মণ ওজন, ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার ‘বাহুবালী’। প্রায় ১১০০ কেজি ওজনের বিশাল এই ষাঁড়টিকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাব ও রাজকীয় গঠনের কারণে ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বাহুবালী। কোরবানির হাটে এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
খামারি রিপন মিনা জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের এই ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন তিনি ও তার স্ত্রী রোজিনা পারভীন। প্রতিদিন গোসল, পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় করা হয়েছে বাহুবালীকে। তিনি বলেন, তার খামারে আরও ২১টি গরু থাকলেও এখন মূল আকর্ষণ এই গরুটিই।
রোজিনা পারভীন জানান, বাহুবালী আকারে বিশাল হলেও স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত। প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি হাট থেকে এটি কেনা হয়েছিল, তখন এর ওজন ছিল মাত্র ২০০ কেজি। যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারের কারণে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে ষাঁড়টি। এর খাবারের তালিকায় রয়েছে খোল, ভুসি, খড়, চিটাগুড়, কাঁচা ঘাসসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহুবালী এখন শুধু একটি গরু নয়, বরং এলাকায় এক ধরনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে গরুটি দেখছেন, ছবি তুলছেন এবং এর ওজন ও সম্ভাব্য দাম নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, বাহুবালীই সম্ভবত জেলার সবচেয়ে বড় গরু। খামারটি প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন করছে বলেও জানা গেছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন।



