প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১২:২২ এএম
দেশজুড়ে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার নানা ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে অভিভাবকদের মধ্যে। এমন বাস্তবতায় নিজের মাত্র চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী আবেদন করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার এক বাসিন্দা। সন্তানের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বৈধভাবে একটি শটগান পাওয়ার আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনপত্র জমা দেন উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর আকনের ছেলে। আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, সহিংসতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
আবেদনে মাসুদুল ইসলাম দাবি করেন, একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তিনি সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে নিজ উদ্যোগেও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এ কারণে তিনি আইনগতভাবে একটি শটগান পাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে ঘিরে তার উদ্বেগ দিন দিন বেড়েছে। শিশুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের খবর তাকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তিনি এই আবেদন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে একজন বাবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এটি বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ যে সমাজে বাড়ছে, এই ঘটনাকে অনেকে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের উচিত আইনের প্রতি আস্থা রাখা। তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন আবেদন করেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত উদ্বেগের বিষয় বলেই মনে হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কোনো অভিভাবককে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী চিন্তা করতে না হয়।



