প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দঘন দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সময় অসাবধানতাবশত অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। কেউ পশুর আঘাতে, কেউবা ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে গেলেও কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির ব্যস্ততা শুরু হয়। পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস ভাগাভাগির কাজ চলাকালে অনেকেই অসাবধানতার কারণে আহত হন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এসব আহত ব্যক্তি।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা প্রায় ২০ জনকে অস্থি ও শারীরিক আঘাতজনিত বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কেউ হাতে, কেউ পায়ে, আবার কেউ শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকেই প্রাথমিক সেবা নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
আহতদের বেশিরভাগই রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মিরপুর, উত্তরা, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, বাড্ডা, পল্লবী, সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। চিকিৎসকদের মতে, ঈদের সময় প্রতি বছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই সংখ্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকরা জানান, আহত হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পশুর আচরণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকা, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া জবাইয়ের চেষ্টা এবং ধারালো দা বা ছুরি ব্যবহারে অসতর্কতা। অনেকেই গরুর লাথি, শিংয়ের আঘাত কিংবা হঠাৎ ছুটে যাওয়ার কারণে আহত হয়েছেন। আবার কেউ মাংস কাটার সময় হাত ফসকে নিজেই গুরুতর জখম হয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কোরবানির সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পশু নিয়ন্ত্রণে দক্ষ লোকের সহায়তা নেওয়া, শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহারে মনোযোগী হওয়া জরুরি। পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঈদের আনন্দ যেন দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়, সে জন্য কোরবানির পুরো প্রক্রিয়ায় সতর্কতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



