প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ শংকর চন্দ্র দাসের মৃত্যুতে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ কর্মজীবনে জনস্বাস্থ্যসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এই চিকিৎসকের অকাল প্রয়াণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চিকিৎসক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এক শোকবার্তায় ডাঃ শংকর চন্দ্র দাসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
জানা গেছে, ডাঃ শংকর চন্দ্র দাস গত ২৯ মে (শুক্রবার) রাত প্রায় ১১টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে পরপারে পাড়ি জমান।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং হাজারো কৃতজ্ঞ রোগী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দিরাই উপজেলা তথা সমগ্র সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা পরিবারে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস), সহকারী পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকগণ পৃথক শোকবার্তায় তাঁর কর্মময় জীবনের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
শোকবার্তাগুলোতে উল্লেখ করা হয়, ডাঃ শংকর চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক। সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন। রোগীদের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা, সহকর্মীদের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁকে সকলের কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন চিকিৎসকের চেয়েও বেশি কিছু ছিলেন ডাঃ শংকর চন্দ্র দাস। তিনি ছিলেন অসহায় মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শনিবার ৩০ মে ২০২৬ সকালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় নিজ বাসভবনে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেখানে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাঃ শংকর চন্দ্র দাসের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও এক বড় ক্ষতি। তাঁর সততা, মানবিকতা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকের প্রস্থান হলেও মানুষের সেবায় তাঁর অবদান, কর্মস্পৃহা এবং মানবিকতার গল্প দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করবে দিরাইবাসীসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত। তাঁর স্মৃতি বেঁচে থাকবে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে, যাদের জীবনে তিনি আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ডাঃ শংকর চন্দ্র দাসের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।



