রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জগন্নাথপুর হাসপাতালে নার্সের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

জগন্নাথপুর হাসপাতালে নার্সের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে থাকা নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও দায়িত্বে থাকা নার্সদের বারবার ডাকার পরও তারা রোগীকে দেখতে আসেননি। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছায়ারুন নেছা নামের ৪৫ বছর বয়সী ওই নারী।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছায়ারুন নেছা জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস শহীদের স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন।

হাসপাতাল ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ছায়ারুন নেছাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় স্বজনরা ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করা নার্সদের কাছে গিয়ে রোগীকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।

নিহতের স্বামী আব্দুস শহীদের অভিযোগ, একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। শরীর ঠান্ডা হয়ে আসতে দেখে তিনি দ্রুত নার্সদের কাছে ছুটে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা গুরুতর জানিয়ে তিনি অন্তত ১০ বার নার্সদের কাছে গিয়ে সাহায্যের অনুরোধ করেন। কিন্তু তার অভিযোগ, নার্সরা তখন রোগীকে দেখতে এগিয়ে আসেননি। পরে স্ত্রীর মৃত্যু হলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের আরেক স্বজন আব্দুস সালামও দায়িত্বে থাকা দুই নার্সের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে বারবার জানানো হলেও তারা যথাসময়ে রোগীর কাছে যাননি। এ ঘটনাকে তিনি দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষুব্ধ স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা করে।

তবে স্বজনদের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা দুই নার্স জান্নাতুল ফেরদৌস ও সানজিদা। তাদের দাবি, রোগীর চিকিৎসা ও দায়িত্ব পালনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা উজ্জ্বলও নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীকে ডায়রিয়া বন্ধের জন্য একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়। এরপরই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর মৃত্যু হওয়ায় স্বজনরা বিষয়টিকে ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা চিকিৎসাগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত করছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

একই ঘটনায় একদিকে স্বজনরা নার্সদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সরা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, কখন তাদের জানানো হয়েছিল এবং চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীর শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!