প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হট্টগোলের মধ্যে আসির মিয়া (৩৫) নামে এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান চালাচ্ছে।
পলাতক আসির মিয়া উপজেলার দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। বুধবার রাত ৯টার দিকে দামোধরদপী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে হঠাৎ হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আসির মিয়াকে আটকের পর তাঁর স্বজনদের কয়েকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যস্ততার সুযোগে আসির মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান।
তবে আসামি পালানোর সময় তাঁর হাতে হাতকড়া ছিল কি না, এ বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি হাতকড়া পরা অবস্থাতেই পালিয়ে যান। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ফলে হাতকড়াসহ পালানোর বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পরপরই শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশ আসির মিয়াকে ধরতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। সম্ভাব্য পালানোর পথ, স্থানীয় সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
দামোধরদপী গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আজির উদ্দিন জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি একটি বিচার-সালিশে ছিলেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, আসির মিয়াকে আটকের সময় সেখানে হইচই শুরু হয়েছিল এবং সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে যান।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ জানান, পুলিশের হেফাজত থেকে একজন আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। একই সঙ্গে কী পরিস্থিতিতে আসামি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা ও আসামি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে গ্রেপ্তারের পর একজন আসামিকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের বাধা বা হট্টগোল তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি কতটা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিচিতজন ও সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলগুলোতেও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আসির মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এতে পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে আসামি কীভাবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং পালানোর সময় তাঁর হাতে হাতকড়া ছিল কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে।



