রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘স্কুলের ভেতরে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে বহিষ্কার করা হবে’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

‘স্কুলের ভেতরে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে বহিষ্কার করা হবে’

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবেশ শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু। তিনি জানান, পরদিন থেকে কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বিদ্যালয়ের ফটকের ভেতরে কারও কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধান শিক্ষক বলেন, মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তির কারণে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারছে না। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে অভিভাবকদের অনুরোধে সেগুলো ফেরত দেওয়া হলেও এবার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। মেয়েদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যদিও সাধারণত তারা বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে না।

এদিকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী মাসের ১৫ তারিখ থেকে তাদের পরীক্ষামূলক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের আশা, মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা, বইপড়া এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এখানে প্রায় এক হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। চলতি বছরে বিদ্যালয়টি থেকে ২১৩ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং তিনজন সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছে। এর আগের বছর ৩০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল এবং নয়জন সর্বোচ্চ ফল পেয়েছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ নয়, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে আরও মনোযোগী ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!