রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেত্রকোনায় বাস চাপায় মা-মেয়েসহ প্রাণ হারালেন তিনজন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

নেত্রকোনায় বাস চাপায় মা-মেয়েসহ প্রাণ হারালেন তিনজন

ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী। রোববার সকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের চল্লিশা বাইপাস এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চল্লিশা বাইপাস এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় যাত্রীবাহী একটি বাস শহর থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবোঝাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার আমলী কেশবপুর গ্রামের নূর জাহান এবং তার কিশোরী মেয়ে স্মৃতি আক্তার। এছাড়া আরও এক শিশু যাত্রী প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে নূর জাহানের স্বামী আইনুল হকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে আহতদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কারণে কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন মহলের দাবি, ব্যস্ত মহাসড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে পারে। বিশেষ করে ঈদের সময় ও ছুটি শেষে সড়কে বাড়তি চাপের কারণে সতর্কতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!