রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই শোকের মাতম, সড়ক দুর্ঘটনায় নিঃশেষ একটি পরিবার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই শোকের মাতম, সড়ক দুর্ঘটনায় নিঃশেষ একটি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ১১ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আরিফুল ইসলাম (৩০)। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরেছিলেন ঈদ পরিবারের সঙ্গে কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা, ভাই ও বোনকে নিয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

নিহত আরিফুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনায় তার মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা আক্তার (৩২) ও ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম (১৮) নিহত হন। একই ঘটনায় প্রাণ হারান প্রাইভেটকারচালক জাহিদ হোসেনও।

তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে আরিফুলের ভাগনে হুসাইন (৬) ও ভাগনি তাসফিয়া (৩)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক দশক ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন আরিফুল। সোমবার দিবাগত রাতে তিনি দেশে ফেরেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন।

ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গার মালিগ্রাম এলাকায় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পরিবারের চার সদস্য ও গাড়িচালক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যশোরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, এই পরিবারের এখন জীবিত আছেন শুধু আরিফুলের বাবা শহিদুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগামীকাল আরিফুলের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দের প্রস্তুতি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে।

বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস-উর রহমান বলেন, নুরজাহান বেগম এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!