রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কফিনবন্দী হয়ে লেবানন থেকে ফিরলো পরিবারের একমাত্র ছেলেটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

কফিনবন্দী হয়ে লেবানন থেকে ফিরলো পরিবারের একমাত্র ছেলেটি

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম নাহিদের (২০) মরদেহ দেশে ফিরেছে। রোববার সকালে কফিনবন্দী মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসীর মরদেহ। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার দুপুরে কাদাকাটি দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে নাহিদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই দিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে নিহত আরেক প্রবাসী শফিকুল ইসলামেরও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন নাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও শফিকুল ইসলাম। নাহিদের পরিবার জানায়, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানিয়েছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য, প্রতিবন্ধী বাবার সংসারের হাল ধরতেই নাহিদ লেবাননে গিয়েছিলেন। তাকে বিদেশ পাঠাতে পরিবারকে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। এখন পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, পরিবারটিকে ইতোমধ্যে দুই দফায় ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার টাকার বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদুর রহমান জানান, দাফন ও জরুরি ব্যয়ের জন্য পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ায় নিহতদের পরিবার পরবর্তীতে আরও ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে এবং ১০ লাখ টাকা জীবন বীমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

এদিকে, লেবাননে নিহত কলারোয়ার আরেক প্রবাসী শুভ কুমার দাসের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!