প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
সাতক্ষীরায় বিপুল পরিমাণ কোরেক্স সিরাপসহ পুলিশের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার বিকেলে শহরের বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের বহন করা একটি ব্যাগ থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের এসএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে নাজমুল ইসলাম ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। মাদকসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে বাইপাস সড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড়সংলগ্ন এলাকায় তাদের চলাচল ও কর্মকাণ্ড নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র আরও জানায়, সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার অতিক্রম করে একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, কোরেক্স ও গাঁজা সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।
এ কাজে ওই দোকানের মালিক তাইফুর নামে এক ব্যক্তির সহযোগিতা নেওয়া হতো বলেও পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাইফুর কিংবা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, অভিযুক্তরা বাহিনীর সদস্য হলেও তাদের পরিচয় বা পদমর্যাদার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকেই যদি মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, কোরেক্স মূলত কাশি ও সর্দির চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি সিরাপ। এতে থাকা নির্দিষ্ট উপাদানের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে এটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের সিরাপের অবৈধ ব্যবহার ও পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
সাতক্ষীরায় সর্বশেষ অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৫৬ বোতল সিরাপ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং এর আগে তারা মাদক সরবরাহ বা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



