প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর অল্প বয়সে বিয়ের তথ্য পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের অভিভাবকদের ডেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। প্রশাসনের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গোপনে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি এবং এর আইনগত দিক তুলে ধরে তাঁদের সতর্ক করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে বিদ্যালয়টির ১১ ছাত্রীর বিয়ের তথ্য পাওয়া যায়। পরে অনুসন্ধানে আরও দুই ছাত্রীর বিষয় সামনে আসে। এভাবে মোট ১৩ ছাত্রীর অল্প বয়সে বিয়ের তথ্য নিশ্চিত হয়। তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে বিয়ের বিষয়টি ঠিক করা হলেও আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ ছাত্রীর মধ্যে প্রথমে ১১ জন ও তাঁদের অভিভাবকদের নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে তাঁদের একটি অংশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে বাকি ছাত্রীদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে কোনো ছাত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো যাবে না। তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দিতে হবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারগুলোকে এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারও নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তাঁদের আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে বা শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে একই বিদ্যালয়ের এতসংখ্যক ছাত্রীর অল্প বয়সে বিয়ের তথ্য সামনে আসায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই বিয়ের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, পরিবার, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা কঠিন। তাই ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার পাশাপাশি পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আরও সতর্ক নজরদারি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।



