প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসে ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন এক নারী প্রার্থী। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও সন্তানকে কার কাছে রেখে হলে যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই উদ্বেগ দূর করতে এগিয়ে আসেন পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নারী পুলিশ কনস্টেবল শিল্পী। মায়ের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে পুরো সময় তার দেখাশোনা করেন তিনি।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে জেলা প্রশাসনের অধীনে একটি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে এসেছিলেন এক নারী চাকরিপ্রার্থী। সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শিশুটিকে নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল শিল্পী। প্রার্থীর এমন অসহায় পরিস্থিতি তাঁর নজরে এলে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মাকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এরপর শিশুটিকে কোলে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করেন কনস্টেবল শিল্পী। পরীক্ষা চলাকালে শিশুটির প্রতি স্নেহ ও যত্নশীল আচরণ করেন তিনি। এ সময় সন্তানকে নিয়ে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই পরীক্ষার হলে মনোযোগ দিতে পারেন ওই নারী। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে নিজের কাছেই রাখেন পুলিশ সদস্যটি।
কনস্টেবল শিল্পী জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একজন মা ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। শিশুটিকে দেখাশোনার মতো কেউ না থাকায় ওই নারী প্রার্থী চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বুঝে তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে মা নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন নারী পুলিশ সদস্যের এমন সহমর্মিতার প্রশংসা করেন উপস্থিত অনেকে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের বাইরেও মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো একজন পুলিশ সদস্যের মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে।
একজন মায়ের জন্য চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ছোট শিশুকে নিরাপদে রাখার বিষয়টিও ছিল বড় উদ্বেগের। সেই মুহূর্তে কনস্টেবল শিল্পীর সহযোগিতা ওই নারীকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছে। ফলে সন্তানের চিন্তা দূরে রেখে তিনি পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে পেরেছেন।
সাতক্ষীরার এই ঘটনা দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। একজন নিরাপত্তাকর্মীর সামান্য সহযোগিতাও কীভাবে একজন পরীক্ষার্থীর জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে, কনস্টেবল শিল্পীর এই উদ্যোগ তারই উদাহরণ। উপস্থিত মানুষের প্রশংসায়ও ফুটে উঠেছে, কর্তব্যের সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের আস্থা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারে।



