প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় কয়েকদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি না পারছেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে, না পারছেন ভারতে ফিরে যেতে। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও অনাহারের মধ্যে দিন কাটছে তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের পাশের শূন্যরেখায় মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাত থেকে অবস্থান করছেন ওই বৃদ্ধ। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্তও তাকে একই স্থানে দেখা গেছে। প্রচণ্ড রোদ, বৈরী আবহাওয়া এবং খাদ্যসংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কয়েকজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এ সময় অন্যরা ফিরে যেতে পারলেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ওই বৃদ্ধ শূন্যরেখাতেই আটকা পড়ে যান।
জানা গেছে, তিনি যখনই কোনো দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই দুই পাশ থেকে বাধার মুখে পড়ছেন। ফলে কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকে গেছেন তিনি। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে। মানবিক বিবেচনায় কিছু গ্রামবাসী সীমান্ত নজরদারির ফাঁকে তাকে শুকনা খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, একজন বয়স্ক মানুষকে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধান চান।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার সকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধান মেলেনি। ভারতীয় পক্ষ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বৈঠক শেষ হলেও বৃদ্ধের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবিক প্রশ্নও সামনে এনেছে। অনেকেই বলছেন, সীমান্ত ও রাষ্ট্রীয় জটিলতার ঊর্ধ্বে একজন অসহায় মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনরক্ষাই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



