রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ছড়ানো, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আটক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ছড়ানো, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আটক

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ, নির্যাতন, অর্থ আদায় এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শনিবার গভীর রাতে ময়মনসিংহ শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া শিশির আহম্মদ তালুকদার রাতুল পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের একজন নেতা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরীফ হোসেন রওশন গত ১০ জুন নেত্রকোনা শহরে যাওয়ার পথে ভুলক্রমে পূর্বধলার শালদিঘা এলাকায় নেমে পড়েন। পরে তিনি গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীর উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের পর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশের একটি দল প্রধান আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনিয়ে নেওয়া মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি লুট করা অর্থের একটি অংশও জব্দ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মামলার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!