চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ছবি: প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান দাবি করেছেন, মেসে বান্ধবীসহ আটক হওয়ার যে ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, সেখানে থাকা তরুণী আসলে তার বৈধ স্ত্রী। ঘটনার প্রায় এক মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে বিয়ের ছবি পোস্ট করে সাকিফ রহমান লেখেন, “বছর আড়াই আগে চোখাচোখি থেকে শুরু। এরপর বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে; সেই চোখাচোখি থেকে বউই হয়ে গেলো।” পোস্টে তিনি তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও আস্থার কথাও তুলে ধরেন।
এর আগে ১৩ জুন দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকাকালে সংঘটিত ওই ঘটনার ট্রমা থেকে তারা এখনো বের হতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কয়েকজন ব্যক্তি ক্যামেরাসহ তাদের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর, হেনস্তা এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে। পাশাপাশি দুটি ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, ব্যাগ, নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সাকিফ রহমান জানান, পারিবারিক কারণে বিয়ের বিষয়টি তখন প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তরুণীটিকে ‘বান্ধবী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, “শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত পরিচয় জানানো হয়েছে। কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা আমরা করিনি।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন জোবরা এলাকার একটি ভবন থেকে স্থানীয়দের হাতে আটক হন সাকিফ রহমান ও ওই তরুণী। পরে তাকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পর ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে প্রথমে সাকিফ রহমানের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়। পরে পোস্টটি সম্পাদনা করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়। তবে ওই দুই শিক্ষার্থী ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২৪ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।
এ বিষয়ে সাকিফ রহমান বলেন, “আমরা গত ১৬ মে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। পরিকল্পনা ছিল মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করার। কিন্তু ঘটনার দিন আমাদের কথা বলার সুযোগ না দিয়েই মারধর ও ভিডিও ধারণ করা হয়। হামলাকারীরা আমাদের অনেক জিনিসপত্রও নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
অন্য দুই শিক্ষার্থীর ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাই আমাকে চিনত। অন্য কারও নাম বলার সুযোগই ছিল না। সেখানে প্রক্টরও উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্য কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ছড়িয়েছে, তা আমার জানা নেই।”
মাতৃভূমির খবর