প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
রাজশাহীর বিখ্যাত আমের খ্যাতি এবার মুগ্ধ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনকে। আমের মৌসুমে রাজশাহী সফরে এসে তিনি জেলার অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি আম উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার নানা দিক সম্পর্কে ধারণা নেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আমের হাটে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত। সেখানে ফল গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা তাঁকে বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা এবং কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত আরও কয়েকটি উন্নত জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।
বিভিন্ন জাতের আম খাওয়ার পর রাষ্ট্রদূত বিশেষভাবে ক্ষীরশাপাতি ও ল্যাংড়া আমের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এই দুই জাতের আমের স্বাদ ও গুণগত মান তাঁর কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আমের বাজার ঘুরে তিনি চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাও বলেন এবং উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাজশাহীতে এটি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। আমের মৌসুমে এসে সরাসরি বাগান ও বাজার ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য আনন্দদায়ক। তিনি মনে করেন, কোনো অঞ্চলের প্রধান কৃষিপণ্য সম্পর্কে জানতে হলে সেই এলাকায় গিয়ে তা কাছ থেকে দেখা ও স্বাদ নেওয়ার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে দেশের আম রপ্তানির সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে উন্নত শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বছরের দীর্ঘ সময় আমের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রদূতের এই সফর রাজশাহীর আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের আমের পরিচিতি বাড়াতে এমন সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।



