প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয়।
শুক্রবার সকালে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হলে কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
শ্রমিকদের একাংশের দাবি, বয়লারটিতে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি ত্রুটি ছিল। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া কারখানার অভ্যন্তরে জরুরি নির্গমন পথ ও চলাচলের কিছু অংশ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ফলে বিস্ফোরণের পর দ্রুত বের হয়ে আসতে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
দুর্ঘটনার পর শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে প্রশাসন, শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানাগুলোতে নিয়মিত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, নিরাপত্তা মহড়া এবং জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।



