প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের ভূমি কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগেই স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই সঙ্গে সরকারি সেবায় শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা সদরের ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে যান প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি কার্যালয়ের দুটি ভূমি সার্কেল অফিস ঘুরে দেখেন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পরিদর্শনকারী দলের নজরে আসে।
অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি দেখতে পাওয়ার পর হাজিরা খাতাও পরীক্ষা করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেখতে পান, কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে আগে থেকেই হাজিরা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। সরকারি দপ্তরে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা দিয়ে রাখবেন—এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং জনগণকে যথাযথ সেবা দেওয়া প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তাদের সেবা করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং এটি কোনো ধরনের দয়া বা অনুগ্রহ নয়। তাই সরকারি কর্মস্থলে সময়নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কেও তিনি খোঁজ নেন।
হাজিরা নিয়ে যে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে শুধু অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারি সেবার মান উন্নত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও কর্মমানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি দপ্তরে জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। অফিসে সময়মতো উপস্থিতি, নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ সরকারি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আকস্মিক এই পরিদর্শনের ফলে নারায়ণগঞ্জের ভূমি কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজরদারি বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরে হাজিরা ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধ এবং জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।



