রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভাতিজাকে অপহরণ করে হত্যা, চাচার যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

ভাতিজাকে অপহরণ করে হত্যা, চাচার যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১২ বছরের ভাতিজাকে অপহরণের পর হত্যা করার মামলায় চাচা মাসুম বিল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক এ কে এম রকিবুল হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে মামলার সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহর বয়স ২৯ বছর। তিনি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত শিশু রিফাত হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা রাসেল মোল্লার ছেলে। সে মায়ের সঙ্গে দক্ষিণ রূপসীর একটি ভাড়া বাসায় থাকত এবং স্থানীয় কাজী মহিউদ্দিন মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ রমজান মাসে জোহরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল রিফাত। এ সময় তার আত্মীয় চাচা মাসুম বিল্লাহ তাকে নিয়ে যান। পরে শিশুটির পরিবারের কাছে ফোন করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

রিফাতের মা সুফিয়া আক্তার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিতে পারেননি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। টাকা না পাওয়ার পর শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। পরে তার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত ঘরে রেখে দেওয়া হয়।

শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ওই রাতেই পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্তানের মরদেহ শনাক্ত করেন তার মা। ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর মাসুম বিল্লাহ নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে নিজের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে চলে যান। পরে তিনি নেছারাবাদ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথি আদালতে উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি এবং পরবর্তী সময়ে হত্যার ঘটনায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত মাসুম বিল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রিফাতের পরিবারের জন্য এ রায় যেমন দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত, তেমনি এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তাও বহন করছে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হারানোর ঘটনায় যে শোকের মধ্য দিয়ে গেছেন, রায়ের পরও সেই ক্ষত পূরণ হওয়ার নয়। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় নির্ধারণ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে একটি শিশুকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছিল। প্রায় দেড় বছর পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে চাচা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!