প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী শিশুটিকে নিজ ঘরে ডেকে নেন আবু তাহের। এরপর সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। পরে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়।
তদন্ত শেষে পুলিশ গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রায় ঘোষণার পর শিশুটির পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
আদালতের এই রায়কে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



