প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ফরিদপুরে এক যুবকের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কারণে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জোরালো হয়েছে।
মৃত যুবক মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ, যিনি স্থানীয়ভাবে প্রান্ত নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার বাসিন্দা এবং আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের এক আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবিলম্বে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অভিযানে ইশতিয়াককে আটক করা হয় এবং পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গোয়েন্দা কার্যালয়ের হাজতে রাখা হয়। সেখানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে জেলা হাসপাতালে এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, আটক করার সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে পরিবারের অনুরোধে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলও ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই জনগণের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



