প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
দেশের বাজারে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ মান নির্ধারণকারী সংস্থা। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের মোট আটটি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাগারে বিভিন্ন নমুনা বিশ্লেষণের সময় কয়েকটি পণ্যে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী উপাদান, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত গুণগত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়ে। এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, একটি আমের আচারের নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী উপাদান রয়েছে। এছাড়া একটি আইসক্রিমের নমুনায় নির্ধারিত মানের তুলনায় দুধজাত উপাদানের পরিমাণে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কয়েকটি ত্বক পরিচর্যার সামগ্রী ও একটি শ্যাম্পুর নমুনায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীব শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের আম ও কমলা স্বাদের পানীয় গুঁড়ার নমুনায় প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পণ্য নির্ধারিত মান পূরণ না করায় লাইসেন্স পুনর্নবায়ন বা নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে।
জনস্বার্থে দেশের সব পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে এসব পণ্য দ্রুত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির মহাপরিচালক বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা প্রতিটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তাই ভোক্তাদেরও পণ্য কেনার আগে মানচিহ্ন, অনুমোদনের তথ্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালোভাবে যাচাই করে কেনাকাটা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



